সেদিনের ভাইরাল হওয়া 'চা কাকু' এখন কোভিড ভলেন্টিয়ার
"আমরা কি চা খাব না, খাব না আমরা চা?" বাক্যটি নিশ্চয় মনে আছে সবার। গতবছর লকডাউনে ভাইরাল হয়েছিল এই বাক্যটি৷ যিনি এই বাক্যটি বলেছিলেন তাকে লোকে 'চা কাকু' বলেই চিনেছেন। তুমুল ভাইরাল হওয়া সেই চা কাকুর আসল নাম হলো মৃদুল দেব। তাকে নিয়ে মজা করে ইউটিউব ও ফেসবুকে নানান রোস্ট, কমেডি এবং কৌতুকপূর্ণ ভিডিও তৈরি হয়।
গত বছর ২২ শে মার্চ লকডাউন জারি করা হয় গোটা রাজ্য তথা দেশজুড়ে। লকডাউনে কয়েকটি নির্দেশ মেনে চলার নিধান দেয় রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশ অমান্য করে কয়েকজন ব্যক্তি রাস্তার ধারে একটি দোকানে চা খেতে বেরিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় একজন সচেতন নাগরিকের একটি ফেসবুক লাইভ মিনিটের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে চা কাকুকে প্রশ্ন করা হয় "আপনি বাইরে বেরিয়েছেন কেন?" উত্তরে চা কাকু বলেন, "আমরা কী চা খাব না, খাব না আমরা চা?" চা কাকুর পাশাপাশি আরেক ব্যক্তি এমন সময় বলেন, "আমরা চা খেতে এসেছি, চা খাওয়া হয়ে গিয়েছে, চলে যাচ্ছি।"
মৃদুল দেব ওরফে চা কাকু সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার পরই রাতারাতি বদলে গিয়েছে তার জীবন। ঠিক যেন ম্যাজিকের মতো৷ ভিডিও ভাইরাল হলে অনেকেই চা কাকুর বাড়ি এসে তার খোঁজ নিয়েছিলেন৷ চা কাকুর বাড়িতে এসে সকলে জানতে পারেন, উনি একজন দিনমজুর। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে তিনি দিন কাটাচ্ছেন। ছেলের জন্য পড়াশোনার খরচ জোগাতেও তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। তিনবেলা খাবার জোটাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থায় পড়ে গিয়েছেন তিনি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু মানুষ সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন তাকে।
মৃদুল দেবের কথা জানতে পেরে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী তার সারা জীবনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। যেমন ঘোষণা তেমন কাজও করে দেখিয়েছেন তিনি৷ সত্যি সত্যিই মৃদুলবাবুদের সারা জীবনের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। মৃদুলবাবু কোনো অসুবিধায় পড়লে তিনি বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করছেন। মাঝেমধ্যে নিয়ম করে খোঁজখবরও রাখছেন তিনি। মৃদুলবাবুর ছেলের পড়াশোনার দায়িত্বও তিনি সামলাচ্ছেন। ফলে মৃদুলবাবুর দিনকাল বেশ স্বচ্ছন্দেই কাটছে।
আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে বর্তমানে চা কাকু কী করছেন? সেদিনের চা কাকু বর্তমানে একজন কোভিড ভলেন্টিয়ার। করোনা আক্রান্তদের তিনি বিশেষভাবে সাহায্য করছেন। তিনি এখন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কোভিড যুদ্ধে সামিল। সেদিন হয়তো তিনি ভাইরাল না হলে এতোকিছু করবার সুযোগও পেতেন না। আসলে মানুষের ভাগ্য এরকই। হঠাৎ করেই সব বদলে যায় মায়াজালের মতো।
প্রতিবেদন- সুমিত দে
Post a Comment